Wednesday, July 9, 2014

দীপঙ্কর বেরা

                                                                                       সুন্দর

হাতে কিছুটা সময় পেয়ে মনে হল দুষ্টুমি করার চেয়ে কিছুটা সুন্দরের আরাধনা করা যাক । শহরের এই অবস্থানে কি করা যায় । দেখি সামনেই একটা পার্ক ।ঢুকে পড়লাম । কেউ গোল হয়ে কথা বলতে বলতে পাক দিচ্ছে । কেউ বা বসে আছে । আর নানান ফুল গাছ । শীত বিদায় নিয়ে নিয়েছে বসন্ত পুরো মাত্রায় আসে নি । ফলে ফুলের গাছগুলো বেশ ম্রিয়মাণ । তারই আসে পাশে ঘুরছি । ঠিক মনটা ভরছে না । পাশেই বাস রাস্তা ধোঁয়া ছেড়ে গাড়ি  যাচ্ছে । তাও সুন্দর দেখব তাই লোকজন কত কষ্ট করে নিজেদের প্রিয় ঘরে ফিরছে তাই মনটা ভাল হয়ে গেল ।

মন ভরছে না তাই এদিক ওদিক দেখছি । সি-স তে দুটো শিশু হাসি দেখে মন ভরে গেল । কত এমন প্রাণখোলা হাসি আমি হাসি নি । আমরা লোকের ঠকে যাওয়া , উদ্ভট চলা , শিক্ষানবিশের ভুল করা ইত্যাদিতে অন্যকে হেয় করার জন্য হাসি । আনন্দে বা কিছু প্রাপ্তিতে তেমন হাসি কই ? ভাবি আরো বেশি পাওয়া উচিত ছিল । পাশেই দুটো ছেলে স্লাইডিং উঠতে পারছে না দেখে অনেকেই তেমন হাসি হাসছে । কিন্তু আমি সুন্দরের কথা ভাবতে চাই । 


ছোট মত পরিখা তাতে বেশ মাছ । জলটা বেশ শ্যাওলায় ভরা , পাতা পড়ে আছে । মাছগুলো কেমন বাঁচার জন্য উঠছে আর ডুবে যাচ্ছে । কিন্তু সুন্দর কৈ ?আর তখন চোখে পড়ল একটি মেয়ে । পার্কে চক্কর দিচ্ছে । আমি অভিভূত হয়ে গেলাম । এতক্ষণে মনে আমি যা খুঁজছি এই বোধহয় সেই । পিছু নিলাম । সূর্য এখনো ডোবে নি । আমারও অনেক ঘোরা হয়ে গেছে তাও পেছনে ঘুরতে ভালই লাগছে । ভয় এসে গেল । যদি বলে পিছু নিচ্ছে । তাই আড়াল করে দেখার চেষ্টা করছি । মেয়েটি বেরিয়ে পড়ল । সঙ্গে ওর মা । এতক্ষণ লক্ষ্যই করি নি । পার্কের পরে আরো বসার জায়গা ঘোরাফেরা করা যায় । সেখানে ওরা দাঁড়াল । ফোনে কথা বলছে । 
নিজেকে ভাবছি , আমি কি চরিত্রহীন । নির্লজ্জের মত একটা মেয়েকে দেখে চলেছি । বিপরীতের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক । কিন্তু তারও মাপকাঠি আছে । আমি কিছু ক্ষতি করি   নি । ওকে পাওয়ার আশা করি নি । আমার প্রেমিকা আর আমার ভালবাসার কাছে এই সুন্দরতা গ্রহণযোগ্য কিন্তু অধিকার ভাবনার কোন স্থানই নেই । 
আমার এতক্ষণ দৃষ্টিগোচরে সুন্দর তো একেই মনে হল । এর চলা ফেরা দেখা হাঁটা আমার ভাল লেগেছে । দু কলি জীবন গাঁথা গুনগুনিয়ে মনে চলে আসছে । ভাবতে খুব কষ্ট লাগে একেই দলিত মথিত করতে মানুষ খুব খুব উন্মত্ত হয়ে ওঠে । সংসারে চাপে এই-ই কেমন মুষড়ে পড়ে । কেন এমন হয় আদিমতা কি কেবল সুন্দর নষ্ট করতেই উদ্যত ? আমার প্রেমিকা যেন আমার কাছে সুন্দরের উপাচারে আমাকে গ্রহণ করে সেই ভাবনা মেয়েটিকে দেখে আমার মনে হল ।
দেখলাম ওদের ফোনে কথা বলা শেষ । বোধহয় বেরিয়ে যাওয়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে । সন্ধ্যে হয়ে আসছে । আমি অবাক বিস্ময়ে আমার সুন্দরকে দেখছি । এত সুন্দর । যেমন আমার প্রেমিকা খিলখিলিয়ে ওঠে তেমন সুন্দর । দেখার সৌন্দর্যে আমি কাও কে মাপ করতে চাই না এমন কি পরখ করতেও চাই না ;কেন না প্রত্যেকে নিজস্বতায় আরো সুন্দর হয়ে ফুটে   উঠবে । 
পার্ক থেকে বেরিয়ে গেল । আমিও পিছু নিলাম । যাই না ক্ষতি কি ? আমি তো হাঁটছি । সময়ও আছে । একটু গিয়ে থমকে দাঁড়াই । না এই ঠিক এর বাইরে একে এর মত থাকতে দিতে হবে ।  না হলে আমার এই সৌন্দর্য ভাবনা না নষ্ট হয়ে যায় । 





0 comments:

Post a Comment